চিঠি-২
শহুরী,
মনে অাছে তোমার? সেদিন অাকাশ ভেঙ্গে ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল। অামি প্রথম জল-কাদার গ্রাম অস্তর দিয়ে শহরে উঠেছিলাম। সেদিন কেবল তোমার হাতের একজোড়া কদম ছাড়া, অামার পুরো শহরটাই অচেনা ছিল। অথচ কেউ জানেনি সেটা। শুনেছি, শহরে বৃষ্টির জলে ছলাৎ শব্দ পা রাখতে শিখেনি কেউ। তবে সেদিন তোমার পদে যে শব্দ তাল দিয়ে গেছে, তার নাম কি ছিল?
শহর বড় যান্ত্রিক। এখানে শুদ্ধ প্রেমিকরা অক্সিজেন পায় না। জানো, অামার সেদিন প্রচণ্ড ভয় হয়েছিল। ভয়ে ভয়ে সে বর্ষা কেটে হেমন্ত এসে পড়ল। অামিও শহর চিনে উঠেছি। শহরের অলিতে গলিতে কান পেতে খুঁজে বেড়িয়েছি তোমার পদের শব্দ। অাশ্চর্য, কেউ সে খবর অামায় দিতে পারেনি! অথচ সে হেমন্তেও মাঝে মাঝে বৃষ্টির জলে শহর ভিজেছিল। ভিজেছিল অামার স্বাধ, অামার প্রেম, সাথে তোমায় নিয়ে গড়ে উঠা অামার চিলেকোঠা।
তারপর একদিন হঠাৎ করেই অামার বুকের জমিনে তোমার পদের শব্দ শুনতে পাই। সেবার ছিল ভারি বসন্ত। প্রকৃতি সেজেছে পাখিদের কূজনে অার নানান রঙের ফুলে। অার অামার অাঙ্গিনা সেজেছে তোমাতে। তুমি নূপুর পায়ে শব্দ করে ডেকে চললে অামাকে। অশ্চর্য, অামি সাড়া দিতে পারিনি। তুমি চলে গেলে অামার বুকের জমিনে তোমার পদ চিহ্ন রেখে। অামি তাকিয়ে রইলাম পলকহীন দৃষ্টিতে। অথচ কেউ দেখেনি।
ইতি
মৃত প্রেমিক
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন